Search This Blog

Loading...

Monday, May 14, 2012

ইউরো ২০১২ প্রিভিউ পর্ব ৪ – ইতালী


ইউরো ২০১২ প্রিভিউ পর্ব ৩ – ক্রোয়েশিয়া

ইউরো ২০১২ প্রিভিউ পর্ব ২ – নেদারল্যান্ডস

ইউরো ২০১২ প্রিভিউ পর্ব ১ - জার্মানী

পর্ব চারে স্পেনের আসার কথা ছিল, আর পর্ব পাঁচে ইতালী। সিরিয়ালে একটু ওলট পালট হল কারন স্পেন বা পর্তুগালের আগেই ইতালী তাদের ৩২ জনের প্রিলিমিনারী স্কোয়াড ঘোষনা করেছে গতকাল, আর প্রিয় দল বলে ইতালী নিয়ে ইউরো ২০১২ প্রিভিউ দেয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। আর এই একই কারনে এই প্রিভিউটা অন্য দলের চেয়ে বেশ বড় হবে, আশা করি পর্তুগাল আর স্পেনের ফ্যানদেরকে বোর করব না!

এবারের ইউরো ইতালীর জন্য অনেক গুরুত্বপুর্ন (আমি বলছি না যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বড় সম্ভাবনা আছে), ২০১০ এর বিশ্বকাপ এক কোচ মার্সেলো লিপ্পির একগুয়েমীর জন্য গো হারা হেরে যাওয়ার পর ঘুরে দাড়ানো অনেক দরকার। গত বিশ্বকাপের সুত্রে অনেকেই হয়ত আশা করবে ইতালী এবারও গ্রুপ থেকেই বাদ পড়বে, তবে আমার ধারনা, গ্রুপ পর্ব পার করতে পারলে ফাইনাল (কমপক্ষে সেমিফাইনাল) এর আগে আর থামাথামি নাই।

নিচে এবারের অফিসিয়াল ইউরো জার্সি, ভাল লাগে নাই আমার খুব একটা। তবে একখান কিনবো দেখি, ২০০৬ তে কিনছিলাম আর চ্যাম্পিয়ন হইছিল ইতালী। 



ইতালীর ৩২ জনের টিম আগে দেখে নেই, এর পর প্রোবাবল বেস্ট ইলেভেন আর সাথে ২৩ জনের মুল একাদশ (আমার প্রেডিকশন আর কি)। সব শেষে কোচ সিজার প্রান্দেল্লী রিভিউ, আর ইউরো ২০১২ এর প্রেডিকশন তো থাকবেই। তবে শুরু করার আগে একটা অ্যালার্ট দেই, ইতালীকে যারা পুরো মাত্রার ডিফেন্সিভ দল হিসেবে জানেন, ইউরোতে সারপ্রাইজড হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন।

ফর্মেশন নিয়ে খেলার জন্য ইতালী বিখ্যাত, কখনই প্রেডিক্ট করতে পারবেন না এরা ঠিক কোন ফর্মেশনে শুরু করবে আর ম্যাচের মাঝে কতবার ফর্মেশন চেঞ্জ করবে। তবে অবশ্য ২০০৬ এর তুলনার এবার ইতালীর মিডফিল্ড আর স্ট্রাইকিং এ ভ্যারিয়েশন কম, যে কারনে ইতালীর মুল ফর্মেশন হওয়ার কথা ৪-৩-১-২। তবে সীমিত সুযোগেও ইতালী খুব সহজেই ৪-১-৩-২, ৪-৩-৩ বা ৪-৩-২-১ এ চলে যেতে পারে।

গোলকিপিং
 

গিয়ানলুইজি বুফন – প্রথম পছন্দ আর অধিনায়ক। জুভেন্তাসের এবার লীগ চ্যাম্পিয়ন দলের কীপার, বয়স ৩৪ বলে অনেকের ধারনা সেরা সময় হয়ত আর নাই বুফনের। একেবারে ফেলে দেয়ার মত কথা না যদিও, কিন্তু একটা কথা আছে না, ফর্ম ইজ টেম্পোরারী ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট? ক্রুসিয়াল সময়ে ক্রিটিকাল সেইভ করার ক্ষমতা এখনও আছে যেটা এই সিজনেই দেখা গেছে। ক্লাস নিয়ে যাদের ডাউট আছে, একটু উইকি করে দেখে নেন কতগুলা অ্যাওয়ার্ড সে জিতেছে গোলকীপার হয়েই

এমিলিয়ানো ভিভিয়ানো – পালের্মোর কীপার, ২৬ বছর বয়স। মুল ২৩ জনের দলে ঢুকতে ফাইট করতে হবে নিচের বাকি দুইজনের সাথে। তবে বুফনের পরেই সবচেয়ে বেশী ইন্টারন্যাশনাল এক্সপেরিয়েন্স তার (যদিও মাত্র ৬ ম্যাচের)। এই সিজনে ক্লাব দলেও নিয়মিত ছিল না সে।

মর্গ্যান ডি স্যানটিস – ন্যাপোলীর কিপার, বয়স ৩৫। বুফনের চেয়ে বয়স বেশী হলেও একেই আমি এগিয়ে রাখব মুল ২৩ জনের জনে থাকার জন্য, এবারের লীগে ন্যাপোলীর হয়ে নিয়মিতই মাঠে ছিল।

সালভাতোরে সিরিগু – প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর কীপার, ফ্রেঞ্চ লীগে পিএসজির হয়ে নিয়মিত খেলেছে এবার, আর যথেস্টই ভাল খেলেছে। পিএসজির হয়ে ২০১১-১২ এর প্লেয়ার অফ দ্যা সিজনের (গোল ডট কম) জন্য টপ থ্রিতেও ছিল, যদিও নেনে ওই অ্যাওয়ার্ডটা জেতে পরে।

ইউরো ২০১২ গোলকীপার – বুফন - সিরিগু - ডি স্যানটিস; এই তিনজনই আমার ধারনা।

সেন্ট্রাল ডিফেন্স


গিওর্জিও কিয়েলিনি – নেস্তা-ক্যানাভারো যুগের পর ইতালীর সেরা স্টপার ব্যাক। ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ৫০, আর এর সাথে প্লাস পয়েন্ট হল জুভেন্তাসের হয়ে এই সিজনে দুর্দান্ত ফর্ম। কিয়েলিনিকে নিয়ে একটাই দুঃশ্চিন্তা, তার লাস্ট ইনজুরী আর ফিটনেস।

আন্দ্রেয়া বারজাগলি – এই সিজনে জুভেন্তাসের দুর্ভেদ্য রক্ষনভাগে কিয়েলিনির পার্টনার। লীগে এরও ফর্ম দুর্দান্ত।

লিওনার্দো বোনুচ্চি – আরেকজন জুভেন্তাসের প্লেয়ার। কিয়েলিনি-বারজাগলির পার্টনারশীপ জুভেন্তাসে সেরা ধরা হলেও বোনুচ্চি-বারজাগলির পার্টনারশীপও সমান ভাবে পারফর্ম করেছে এবার। বরং এই তিনজন থেকে সেরা দুইজন বেছে নেয়াটাই কঠিন।

আন্দ্রেয়া রানোচ্চিয়া – ইন্টারমিলানের ডিফেন্ডার, ২৪ বছর বয়স্ক। ইতালীর প্রতিভাবান ধরা হলেও দলে ওয়াল্টার স্যামুয়েল আর লুসিও জন্য পুরো সিজনে ২০ টার বেশী ম্যাচ খেলা হয় নাই এবার।

সালভাতোরে বোচেত্তি – রাশিয়ান ক্লাব রুবিন কাজানের প্লেয়ার। হার্ড ফাইটার, বয়স ২৫, রাশিয়ান লীগে ক্লাবের হয়ে নিয়মিতই মাঠে ছিল এবার। লেফট ব্যাক হিসেবেও কাজ চালায়ে নিতে পারবে প্রয়োজনে।

ডেভিড এস্তোরি – ক্যালিয়ারীর সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার, ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা মাত্র ১টা। একসময় প্রতিভাবান ধরা হলেও খেলার আশানরুপ উন্নতি হয় নাই আর পরে।

অ্যাঞ্জেলো ওগবন্ন্যা – সেকেন্ড ডিভিশন লীগ থেকে জাতীয় দলে কারো সুযোগ পাওয়াটাই সারপ্রাইজ। বয়স ২৩ হলেও এর ফিউচার নিয়ে আমি ব্যাপক আশাবাদী। ইতালীতে জন্ম হলেও বংশসুত্রে নাইজেরিয়ান, ৬ ফিটের উপরে হাইট, আর অ্যাডভান্টেজ হল সেন্ট্রাল ডিফেন্সের সাথে সাথে লেফট ব্যাকেও খেলতে পারে।

ইউরো ২০১২ সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার – কিয়েলিনি আর বারজাগলি প্রথম একাদশে। এর পর বোনুচ্চি - বোচেত্তি - রানোচ্চিয়া বা ওগবন্ন্যা।

রাইট আর লেফট উইং ব্যাক


ক্রিশ্চিয়ান ম্যাজ্জিও – মুলত রাইট উইঙ্গার হলেও ন্যাপোলোর হয়ে এই সিজনে রাইট ব্যাকে ভাল খেলেছে বললে কম বলা হবে। ট্রান্সফার রিউমার শুনলাম, চেলসি নাকি মাজ্জিও কে অফার দিয়েছে নেক্সট সিজনের জন্য।

ইগনাজিও আবাতে – এসি মিলানের মুল একাদশের প্লেয়ার হলেও জাতীয় দলে খেলার মত না। খুবই অধারাবাহিক, ভাল খেলতে খেলতে এমন একটা ভুল করে ফেলে ম্যাচের মধ্যে, পুরো ম্যাচের ফ্লো চেঞ্জ হয়ে যায়।

ডমিনিকো ক্রিসচিতো – রাশিয়ান ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গের নিয়মিত প্লেয়ার। ঠিক ট্র্যাডিশনাল উয়িং ব্যাকের মত বল নিয়েই ওভারল্যাপ করে উঠে যায় না সে, বরং সময় নিয়ে জায়গামত লং ক্রস করে।

ফ্রেডেরিকো বালজারেত্তি – পালের্মোর প্লেয়ার, এই সিজনে দলে নিয়মিত খেলবে আশা করেছিলাম, খেলেছেও তবে সেরকম কনসিস্টেন্ট পার্ফরমার ছিল না। বালজারেত্তির একটা অ্যাডভান্টেজ আছে, সে লেফট ব্যাকের সাথে সাথে রাইট ব্যাক, রাইট উইং, লেফট উইং সব এই কাভার দিতে পারে।

উইং ব্যাক সেক্টরটা ইতালীর জন্য ভয়াবহ দুর্বল একটা দিক (ডান বাম দুইদিকেই), যাদের নাম আসছে তারা কেউই কিন্তু বড় কোন ক্লাবে খেলে না।

ইউরো ২০১২ উইং ব্যাক – ম্যাজ্জিও আর ক্রিসচিতো প্রথম একাদশে, আর ব্যাকআপ হিসেবে আবাতে অথবা বালজারেত্তি। কোচ যদি মনে করে বালজারেত্তির রাইট ব্যাকে পারফর্মেন্স আবাতের চেয়ে ভাল, তাহলে তো কোন কথাই নেই, আর সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে যদি ৪ জনকে নেয়া হয় তাহলে আবাতে আর বালজারেত্তি দুইজনেই থাকবে ২৩ জনের ফাইনাল দলে।

বল উইনিং মিডফিল্ডার / ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার

মুল একাদশে ৩ বা ৪ জন মিডফিল্ডার খেললে দুইজন থাকবে বল উইনিং মিডফিল্ডার হিসেবে। এদেরকে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারও বলা যায়, তবে ন্যাচারাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের চেয়ে এরা অ্যাটাকিং এ উঠে বেশী আর অ্যাটাকিং সেটপিসে এদের ভুমিকাও অনেক থাকে। টেকনিক্যালি বক্স টু বক্স মিডফিল্ডারও বলা হয় অনেক সময়।


ডানিয়েল ডি রসি – এই পজিশনে শুধু ইতালী না, পুরো বিশ্বেই অন্যতম সেরা প্লেয়ার সে। যেরকম ডিফেন্সে নেমে কাজ করতে পারে, তেমনকি মিডফিল্ড থেকে বল নিয়ে ওভারল্যাপ করে অ্যাটাকে এক্সট্রা ম্যান সাপোর্ট দিতে পারে। দলের পাওয়ারফুল ইঞ্জিন, মিডফিল্ড লিডারও সে।

ক্লডিও মারকিসিও – জুভেন্তাসের আরেকজন, একেও মিডফিল্ড ইঞ্জিন ধরা হয়। দুর্দান্ত হার্ড ওয়ার্কিং, পুরো মাঠ জুড়েই খেলতে পারে বলা যায়। বল উইনিং ট্যাকলিং এর চেয়েও বড় যে গুন এর ধরা হয় তা হল, অপোনেন্ট ডি বক্সের ভেতর চমতকার অফ দ্যা বল পজিশনিং আর বক্সের বাইরে থেকে দুই পায়েই বুলেট শট নেয়ার ক্ষমতা। সেই এক্সট্রা ম্যান সাপোর্ট, ডি রসির মত। এই সিজনে মিডফিল্ড থেকেই তার গোল ১০টা।

অ্যান্টিনিও নচেরিনো – এসি মিলানের হয়ে এই সিজনের নিয়মিত প্রথম একাদশের প্লেয়ার। খেলার ধরন অনেকটাই মারকিসিওর মত, যে কারনে আর রিপিট করলাম না। মারকিসিওর মতই এর গোল স্কোরিং রেকর্ড ভাল, মিলানের হয়ে তার এই সিজনে গোল ১১টা। মারকিসিও মতই নচেরিনো মাঝ মাঠ থেকে ডান আর বাম দুইদিকেও ড্রিফট করে সরে যেতে পারে ।

থিয়াগো মোত্তা – পিএসজির নিয়মিত একজন প্লেয়ার। উপরের তিনজনের মতই মিডল অফ দ্যা পার্ক মিডফিল্ডার, একই সাথে ডিফেন্সের এক্সট্রা ম্যান সাপোর্ট দিতে নিচে নেমেও খেলতে পারে থিয়াগো। ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও আছে।

ইউরো ২০১২ বল উইনিং মিডফিল্ডার – প্রথম একাদশের জন্য আমার পছন্দ ডি রসি আর মারকিসিও। এদের সাথে ব্যাকআপ হিসেবে নচেরিনো আর থিয়াগো মোত্তা।

ডীপ লাইং প্লেমেকার


আন্দ্রেয়া পিরলো - এই মিডফিল্ডার ডিফেন্স লাইনের সামনে থাকলেও ডিফেন্ড করা এর কাজ না আবার, বরং দলে মুল কাজ হল নিচ থেকে অ্যাটাক বিল্ড করা। ডিফেন্স থেকে বল নিয়ে কিছু দুর ড্রিবল, খেলা রিড করার মত ভীশন আর লম্বা ক্রস বা থ্রু বল নিয়ে দ্রুত বেগে অপনেন্টের ডিফেন্স ভেঙ্গে ফেলা – এই কাজগুলো করার মত প্লেয়ার ইতালীতে একজনই আছে, পিরলো। এই সিজনে জুভেন্তাসের হয়ে যা করেছে, অনেকের মতে বেস্ট অফ পিরলো কালেকশনের ৫০% নাকি এই এক সিজন থেকেই নেয়া যাবে। ইতালী দলের মুল ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিন।

লুকা সিগারিনি – মুলত পিরলোর ব্যাকআপ হিসেবেই প্রাথমিক দলে আছে। নিচ থেকে লম্বা ক্রস বা থ্রুতে অ্যাটাক তুলতে পারলেও সক্ষমতা বা ক্রিয়েটিভিতে পিরলো আর ইতালীর অন্যান্য মিডফিল্ডার থেকে বেশ পিছিয়ে আছে।

মার্কো ভেরাত্তি – মাত্র ১৯ বছর বয়স, সেকেন্ড ডিভিশনের ক্লাব পেসকারার প্লেয়ার তাই জাতীয় দলে ডাক পাওয়াটাই বড় সারপ্রাইজ। ভেরাত্তিকে বলা হচ্ছে নতুন পিরলো ইন দ্যা মেকিং, পিরলোর বর্ননায় যা যা লিখেছি সব এখানেও বসবে, শুধু অভিজ্ঞতার অভাব। মুলত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হলেও গত সিজন থেকে ডীপ লাইং মিডফিল্ডার পজিশনে খেলা শুরু করেছে ক্লাব দলে, আর বলা যায় প্রথম সিজনেই সিরি বি তে থেকেই প্রচুর মিডিয়া কাভারেজ পাচ্ছে। ‘নতুন পিরলো’ তকমাটাই অনেক বড়।

ইউরো ২০১২ ডীপ লাইং মিডফিল্ডার – অবশ্যই পিরলো, এর সাথে ব্যাকআপের জন্য সারপ্রাইজ প্যাকেজ হিসেবে ভেরাত্তি থাকতে পারে। নিশ্চিত না কোচ কিভাবে দল সাজাবে, ব্যাকআপ বা কাভার হিসেবে কাউকে না নিলেও ডি রসি বা মন্টোলিভিও কাজ চালিয়ে নিতে পারবে।

অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার


রিকার্ডো মন্টোলিভিও – ইতালী দলের দ্বিতীয় একজন ক্রিয়েটিভ স্পার্ক, যদিও ধারাবাহিক ভাবে ভাল খেলাটাই এর কাছে সবচেয়ে অধারাবাহিকতা। মন্টোলিভিও মুলত সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার যেখান থেকে খেলা তৈরী করে। তবে দলে যেহেতু পিরলো আছে, মন্টোলিভিওর কাজ হবে মুল স্ট্রাইকারদের নিচে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার পজিশনে স্ট্রাইকারদের ফাইনাল বল প্রোভাইড করা। নিজের দিনে দুর্দান্ত একজন প্লেয়ার। প্লাস পয়েন্ট হল, দরকাল হলে নিচে নেমে পিরলোরও ব্যাকআপ দিতে পারে। ও হ্যা, নেক্সট সিজন থেকে এসি মিলানে আসছে।

এমানুয়েলে গিয়াচ্চেরিনি – জুভেন্তাসের উইঙ্গার, মুলত লেফট উইঙ্গার তবে কাজ চালিয়ে নেয়ার জন্য সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডেও কাভার দিতে পারার কথা। লীগে নিয়মিত ছিল না সে, ফলে বলতে পারছি না পারবে কি না। তবে weidth আনার জন্য লেফট উইং বা রাইট উইং প্লেয়ার ২৩ জনের জনের দলে থাকা ভালই হবে।

এজেকুয়েল স্কোলেট্টো – আটলান্টার প্লেয়ার, ২২ বছরের। শুধুই রাইট উইঙ্গার আর রাইট মিডফিল্ডার।

ইউরো ২০১২ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার – মন্টোলিভিও অবশ্যই। কাভার হিসেবে গিয়াচ্চেরিনি থাকতে পারে ২৩ জনের দলে, তবে দরকার নাই। স্ট্রাইকিং লাইন থেকে বেশ কয়জন আছে যারা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ড পজিশনে ভালমত খেলতে পারবে।

স্ট্রাইকার


অ্যান্টোনিও ডি নাতালে –এই সিজনে উদিনেসের হয়ে ৩০ গোল, সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার হিসেবে যেমন খেলতে পারে সাপোর্ট স্ট্রাইকার হিসেবেও ডান-বাম দুইদিক থেকেই বল নিয়ে ডি বক্সে ঢুকতে পারে, সব মিলিয়ে মুল একাদশে কাসানোর সাথে ডি নাতালের খেলার কথা। কিন্তু সমস্যা হল, এর আগেও জাতীয় দলে ডি নাতালে ছিল অনেকবার, আর নীল জার্সি গায়ে দিয়ে ডি নাতালে মনেহয় খেলা ভুলে যায়। এই ব্যাপারটা এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে যে, সিরি-আ তে শেষ দুই সিজনের সর্বোচ্চ ইতালিয়ান গোলদাতাকে দলে নেয়ার জন্য ইতালীর কোচকে মিডিয়াতে ব্যাখ্যা করা লাগে!

অ্যান্টোনিও কাসানো – সিজনের মাঝামাঝিতে একটা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, বেচে থাকা নিয়েই সন্দেহ, কয়েক মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাওয়া আর এই সব কিছু ফেলে কাসানো যে ন্যাশনাল টিমে খেলতে পারার মত ফিটনেস পাবে সেটা কেউ ভাবেই নাই। ১০০% ফিটনেস যে এখনো পায় নাই লীগের শেষ কয়েকটা ম্যাচে বোঝা গেছে সেটা। একটু স্লো হলেও ফরোয়ার্ড লাইনে কাসানোর মত প্রতিভাবান প্লেয়ার যে কম আছে দুনিয়াতে এতে কোন সন্দেহ নাই। ইউরোতেও শুরু করার কথা কাসানোর, তবে এই এক মাসের ফিটনেসের উপর সেটা নির্ভর করছে পুরোটাই। কাসানো মুলত সাপোর্ট স্ট্রাইকার, তবে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও চলে।

মারিও বালোতেল্লি – হোয়াই অলওয়েজ মি? একে নিয়ে আসলে কিছু বলা সেইফ না, হয়ত বললাম খুব ভাল প্লেয়ার আর দেখা যাবে মাঠে গিয়ে ৫ মিনিটের মধ্যেই লাল কার্ড পেয়ে চলে আসছে। আবার হয়ত বললাম বালোতেল্লির ভরসা নাই, দেখা যাবে পরের ম্যাচেই হ্যাট্রিক করে ফেলছে। সে যাই হোক, স্টার্টিং ইলেভেনে খেলানোর রিস্ক নিবে বলে মনে হয় না, সুপার সাব রোলটাই তার জন্য বেস্ট।

সেবাস্টিয়ান জিওভিঙ্কো – নিক নেইম দ্যা অ্যান্ট, ইতালীর নেক্সট জেনারেশন বেস্ট ক্রিয়েটিভ ট্যালেন্ট বলা হচ্ছে। ছোটখাট সাইজ, বয়স ২৫, কিন্তু ড্রিবলিং ক্ষমতা অসাধারন। একমাত্র দুর্বলতা হল শক্তি, পাওয়ারফুল ডিফেন্ডারদের সাথে বডি ট্যাকেলে পারে না। পারমার মত ভগ্ন দলে খেলেও এই সিজনে ১৫ গোল আর ১৬ অ্যাসিস্ট, একে নিয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেস্টই কারন আছে। মুলত সাপোর্ট স্ট্রাইকার হলেও তার সেরা পারফর্মেন্সগুলোর বেশীরভাগ এসেছে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে, দুই স্ট্রাইকারের ঠিক নিচে। এর সাথে প্লাস পয়েন্ট হল রাইট আর লেফট উইঙ্গার, রাইট আর লেফট ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতে পারা।

আলেসান্দ্রো দিয়ামান্তি – বোলনিয়ার প্লেয়ার, লেফট সাইডেড ফরোয়ার্ড, লেফট উইঙ্গার হিসেবেও কাজ চালাতে পারে।

ফ্যাবিও বোরিনি – ইতালীর আরেকজন নতুন প্রজন্মের প্লেয়ার, তবে এই ইউরো তার জন্য একটু তারাতারিই হয়ে গেছে। নেক্সট ওয়ার্ল্ডকাপ না হলেও ২০১৬ এর ইউরোতে ভালভাবে দেখা যাবে তাকে, যদি পোটেনশিয়াল ধরে রাখতে পারে।

মাত্তিয়া ডেস্ট্রো – সিয়েনার স্ট্রাইকার। ব্যাকআপ হিসেবে চলে, জাতীয় দলের ঢুকার মত না এখনও। বোরিনির মতই এর বয়স ২১।

ইউরো ২০১২ স্ট্রাইকিং পার্টনারশীপ – সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার হিসেবে ডি নাতালে, তার কাভার হিসেবে বালোতেল্লি। সাপোর্ট স্ট্রাইকার হিসেবে কাসানো বা জিওভিঙ্কো, ফিটনেসের উপর নির্ভর করছে। কিংবা ৪-৩-২-১ এ খেললে কাসানো-জিওভিঙ্কো দুইজনেই সাপোর্ট করবে ডি নাতালেকে। গিয়াচ্চেরিনি যদি ২৩ জনের দলে না থাকে, তাহলে শেষ স্ট্রাইকার হিসেবে বোরিনি বা দিয়ামান্তি চান্স পাবে।

ফর্মেশন

ফর্মেশন ভ্যারাইটির জন্য ইতালী বিখ্যাত, কখনই প্রেডিক্ট করতে পারবেন না এরা ঠিক কোন ফর্মেশনে শুরু করবে আর ম্যাচের মাঝে কতবার ফর্মেশন চেঞ্জ করবে। তবে অবশ্য ২০০৬ এর তুলনার এবার ইতালীর মিডফিল্ড আর স্ট্রাইকিং এ ভ্যারিয়েশন কম, যে কারনে ইতালীর মুল ফর্মেশন হওয়ার কথা ৪-৩-১-২। তবে সীমিত সুযোগেও ইতালী খুব সহজেই ৪-১-৩-২, ৪-৩-৩ বা ৪-৩-২-১ এ চলে যেতে পারে।

ভিন্ন ভিন্ন ফর্মেশনে ইতালীর সেরা একাদশ কিরকম হতে পারে নিচে ছবি সহ দিলাম।
 

৪-৩-১-২

৪-১-৩-২

৪-৩-৩

এ ছাড়া আরও বেশ কিছু ভ্যারিয়েশন সম্ভব, তবে সব আমি দেখিয়ে দিলে প্লানদেল্লি কোচ হইছে কি করতে?

যাদেরকে মিস করব

ইতালীর সবচেয়ে বড় মিস হল ভিলারিয়েলের গিউসেপ্পে রসিকে না পাওয়া, ইনজুরীতে পড়ে লম্বা সময়ের জন্য নাই। ইতালীর এই টিমের প্রধান স্ট্রাইকার হওয়ার কথা ছিল রসিরই, না থাকাতেই ডি নাতালে খেলবে স্টার্টিং ইলেভেনে। স্পেনের কার্লেস পুয়োলকে হারানোর মতই বড় আঘাত ইতালীর রসিকে না পাওয়া।

রসি ছাড়াও স্ট্রাইকিং লাইনে চেনা মুখ যারা এবার প্রাথমিক দলে নাই – জেনোয়ার আলবার্তো জিলার্দিনো, ইন্টারমিলানের গিয়ামপাওলো পাজ্জিনি (এই নামে আমি নিজেই অবাক হয়েছি, পাজ্জিনি নাই!!!), আর জুভেন্তাসের আলেসান্দ্রো মাত্রি।

মিডফিল্ডেও চেনা বেশ কিছু নাম ইতালীর প্রাথমিক দল থেকে মিসিং, যেমন এসি মিলানের অ্যাকুইলানী, ইন্টারমিলানের অ্যাঞ্জেলো পালোম্বো, আর জুভেন্তাসের উইঙ্গার সিমোনে পেপে।

ডিফেন্সে যেমন নাই মাত্তিয়া কাসানি আর আলেসান্দ্রো গামবেরিনি, গোলকিপিং এ এসি মিলানের আব্বিয়াতি সারা সিজনে ভাল পারফর্ম করেও ভিভিয়ানোর আগে আসতে পারল না কেন বুঝি নাই।

কোচ সিজার প্রানদেল্লী

মার্সেলো লিপ্পি ২০১০ বিশ্বকাপে যে অবস্থায় ইতালীকে রেখে গিয়েছিল, সেখান থেকে সিজার প্রানদেল্লী যেভাবে ১০ পয়েন্ট ব্যাবধান রেখে ইতালীকে ইউরো বাছাই গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন করেছেন – হ্যাটস অফ। প্রানদেল্লীর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল কোন প্লেয়ারের সাথেই তার ঝামেলা নেই যে কারনে সেরা দলটাই নিতে পারেন তিনি। দ্বিতীয়ত, একই দলে কাসানো আর বালোতেল্লিকে রেখে সামলানো যে কোন কোচই ভয় পেত, উনি সেটা ভালভাবেই করেছেন। কাসানো অবশ্য আর আগের মত নাই, যথেস্টই ভদ্র।

প্রানদেল্লী এর আগে ছিলেন ফিওরেন্টিনার কোচ, মিডিওকোর একটা টিম নিয়ে লীগে যে রকম ফাইট দিতেন, ট্যাকটিকাল গেম প্লে তে উনি যে বেশ প্রাধান্য দেন বলাই বাহুল্য। আসলে সেরকমই দরকার, মিডিয়া ফোকাস দেখলে ইতালী দলে সেরকম বড় কোন সুপারস্টার নাই (এক বুফন ছাড়া), তাও এই দলটা যে অনেকের কাছেই চ্যাম্পিয়ন ম্যাটেরিয়াল এটার জন্য সিজার প্রান্দেল্লী বড় একটা ধন্যবাদ পাবেনই।

প্রান্দেল্লীর গেম প্লে হল ফ্লুইড পাসিং, থ্রি মেন বাহাইন্ড দ্যা বল আর কাউন্টার অ্যাটাক – ইতালীর সব সাফল্যের বেসিক যে তিনটা রুল। মিডফিল্ড আর স্ট্রাইকিং এ মোটামুটি সবাই সমমানের প্লেয়ার বলে হাতে ভ্যারিয়েশন যেমন আছে, বেঞ্চও তেমন শক্তিশালী। অনেক অনেক বছর পর ইতালীর এবারের ডিফেন্স লাইন সবচেয়ে দুর্বল, লীগে যেরকম অবস্থা সামনের ১৫-২০ বছরও এরকমই থাকবে।

সম্ভবত বিশ্বকাপের পর প্রান্দেল্লী আর থাকছেন না কোচ হিসেবে। ইউরোতে যাই হোক, নতুন বেশ কয়েকজন প্লেয়ারকে তিনি পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন তার ২ বছরে, আগামী দিনে তারাই ইতালীকে টানবে।

ইউরো ২০১২ প্রেডিকশন

বড় টুর্নামেন্টে ইতালী সবসমই স্লো স্টার্টার, প্রত্যেকবারই কস্ট করে গ্রুপ পার করতে হয়। কি এক বাজে ঐতিহ্য এটা ইতালীর কে জানে, তবে এটা প্রচন্ডভাবে সত্য। এবার গ্রুপেও টাইট হবে ইতালীর।

প্রথম ম্যাচ স্পেনের সাথে, এটা যদি জিতে যায় বা ড্র করে তাহলেই কেল্লা ফতে, তবে আমি ধরে রেখেছি হারবে তাই যত কম ব্যাবধানে হারা যায় সেটা পরে কাজ লাগবে (ইয়ে, ২০১১ তে এক ফ্রেন্ডলী ম্যাচে কিন্তু ইতালী ২-১ এ হারাইছিল স্পেনকে, সেটা স্পেনের মুল দলই ছিল)।

দ্বিতীয় ম্যাচ ক্রোয়েশিয়ার সাথে, যাদের উইং ব্যাক বা উইঙ্গার (ডান বাম দুই দিকেরই) বেশ স্পীডি আর পাওয়ারফুল। অন্যদিকে ইতালীর এবারের উইংব্যাক ডিপার্টমেন্ট সবচেয়ে দুর্বল। ক্রোয়েশিয়ার সাথে ইতালীর সামর্থ আছে গোল দেয়ার এবং একাধিক, শুধু গোল না খেয়ে গেলেই হয়। সম্ভবত গ্রুপের সবচেয়ে এক্সাইটিং ম্যাচ হবে এটা।

তৃতীয় ম্যাচ হবে আয়ারল্যান্ডের সাথে, মিডিওকোর টিম তবে কোচ ইতালীয়ান। আয়ারল্যান্ড নির্দ্বিধায় মিডফিল্ডে শক্তি দিয়ে খেলে মিডফিল্ড দখলে যাবে (যে টেকনিকে ইতালী পারে না), তবে ফাক ফোকর দিয়ে ইতালী ঠিকই গোল বের করে ফেলবে। আমার ধারনা, ১-০ বা ২-০ তে ইতালী জিতবে। আর শেষে কোন একটা মারপ্যাচে পড়ে ক্রোয়েশিয়াকে গোল ব্যাবধানে পিছনে ফেলে ইতালী উঠে যাবে।

গ্রুপ রানার আপ হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে ইতালী, যেখানে গ্রুপ ডি এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইংল্যান্ড বা ফ্রান্সের একজন আসবে। ফ্রান্স বা ইংল্যান্ড যেই হোক, ইতালীর কাছে ব্যাপার না। সেমিতে গেলে দেখা হবে জার্মানী/পর্তুগাল/নেদারল্যান্ডস এর একজনের সাথে (গ্রুপ বি চ্যাম্পিয়ন) – এই খানে এসে প্রেডিকশন দেয়া সম্ভব না আসলে।

দেখাই যাক।

লেখা আপাতত শেষ, পরে কিছু মনে হলে পোস্ট এডিট করে যোগ করে দিব। কেউ যদি আসলেই পুরোটা পড়ে ফেলেন এক সিটিং এ, তাকে ইতালীর নাম্বার ওয়ান সাপোর্টার বলতে হবেই।

কিছু ভিডিও হাইলাইটস দিয়ে লেখা শেষ করি।

বুফন – ইতালিয়ান হিরো – ২০১১/১২ স্টিল দ্যা বেস্ট (এই ভিডিওর ৫২ সেকেন্ডের সেইভটা দেখেন)


বুফন – অফিসিয়াল টপ টেন সেইভ

আন্দ্রেয়া পিরলো – ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট ১১/১২

 আন্দ্রেয়া পিরলো কমপ্লিট

 মন্টোলিভো – ম্যাজিশিয়ান অফ ২০১২
 

কাসানো ২০১১ – দ্যা ফরগটেন ম্যান


 জিওভিঙ্কো ২০১২ – ফুটবল ট্যালেন্ট
 

সবগুলো ভিডিও আমিই অবশ্য দেখি নাই, নেটের অবস্থা খারাপ। ভাল ভিডিও থাকলে শেয়ার করেন কেউ।

Friday, May 11, 2012

ইউরো ২০১২ প্রিভিউ পর্ব ৩ - ক্রোয়েশিয়া

প্রিলিমিনারী স্কোয়াড এখনও সবাই দেয় নাই, অনেক দেশেই লীগের শেষ রাউন্ড চলছে তাই লীগ শেষ হলেই দেখা যাবে বাকি দেশগুলো একসাথে তাদের প্রিলিমিনারী স্কোয়াড বা হয়ত মুল ২৩ জনের স্কোয়াডই ঘোষনা করে দিবে। জার্মানী আর নেদারল্যান্ডস ছাড়া ইউক্রেন দিয়েছে তাদেরটা, সাথে ফ্রান্স আর গ্রীস অর্ধেক স্কোয়াড ঘোষনা করেছে মাত্র।

গ্রুপ বি থেকে জার্মানী আর নেদারল্যান্ডসের পর পর্তুগালের প্রিভিউ দিব ঠিক করেছিলাম, কিন্তু এর মধ্যে এই ১০ তারিখে ক্রোয়েশিয়া তাদের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষনা করে ফেলে। এই দলটাকে আমার বেশ ভাল লাগে তাদের গোল্ডেন জেনারেশনের জন্য - ডেভর সুকের, জোনিমির বোবান, গোরান ভ্লাওভিচ, রবার্ট আর্নি আর স্লাভেন বিলিচ বা এর একটু পরে রবার্ট প্রসিনেস্কি। নস্টালজিক হয়ে যাই মাঝে মাঝেই ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার খেলা মনে পড়লে, দুর্দান্ত একটা দল ছিল তারা। সেবার বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছিল, সেমিতে ফ্রান্সের সাথে এক গোলে এগিয়েও ছিল তারা লিলিয়ান থুরামের অতিমানবীয় গোল শোধের আগ পর্যন্ত।

সেই গোল্ডেন জেনারেশন এখন আর নেই, বরং বলতে গেলে ক্রোয়েশিয়া থেকে নতুন সেরকম আর প্রতিভা উঠে আসছেও না। বর্তমান দলে ৩০ এর ঘরে বেশ কয়েকজন প্লেয়ার আছে যারা ইউরোপে দাপিয়ে খেলে যাচ্ছে, হয়ত এর পরের ইউরোতেই শেষ দেখা যাবে তাদের।

যাই হোক, ইউরোতে চলে যাই। নিচে এদের ইউরো ২০১২ এর অফিসিয়াল জার্সি। ইউনিক একটা জার্সি, আমার প্রিয় ডিজাইনের তালিকায় সবসময়ই উপরের দিকে থাকবে।
এই দলটার মাথা হল স্লাভেন বিলিচ, উইং নির্ভর খাটি ইউরোপিয়ান স্টাইলের আক্রমনাত্মক আর প্রচন্ড ইমোশনাল একজন কোচ। ডাগআউটে তাকে দেখলেই বোঝা যায় সেটা, প্লাস পয়েন্ট হল প্লেয়ারদের সাথে অনেক ফ্রেন্ডলী সম্পর্ক আর নিজ দেশে লোকাল ফুটবল লিজেন্ডের কাতারে তার নাম। অবশ্য এই ইউরোই তার শেষ দায়িত্ব ক্রোয়েশিয়ার হয়ে। বাছাইয়ে খুব একটা ভাল না করতে পারলেও ২০০৬ এর পর থেকে ক্রোয়েশিয়াকে যেভাবে আবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে শক্তিশালী দল হিসেবে গড়ে তুলছেন, ক্রোয়েশিয়া উইল মিস হিম।

বিলিচের প্রেফারড ফর্মেশন হল ইউরোপিয়ান স্টাইলের ৪-৪-২, তবে মিডফিল্ড ভার্সেটাইল বলে ৪-৩-৩ এই চলে আসতে পারে যেকোন সময়। তার দলটা দেখে নেই এবার (অনেকের নামের বাংলা উচ্চারন আর বানান ভুল থাকতে পারে)।

গোলকিপিং


খুব একটা বেশী অপশন নাই এখানে, অভিজ্ঞ ৩৩ বছরের স্টাইপে প্লেতিকোসাই থাকবে মুল দলে আর সেরা একাদশেও। ব্যাকআপ হিসেবে মোনাকোর দানিয়েল সুবাসিচ, গোরান ব্লাজেভিচ আর ইভান কেলাভার মধ্যে যেকোন দুইজন। এর মধ্যে একমাত্র সুবাসিচেরই জাতীর দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা আছে, তাও মাত্র ৩ ম্যাচে।

সেন্ট্রাল ডিফেন্স


এখানে দুই স্পটের একটাতে নিশ্চিতভাবেই জোসিপ সিমুনিচ থাকবে, বয়স ৩৪ হলেও অভিজ্ঞতাই এগিয়ে রাখবে তাকে। আরেকটা পজিশনে আমার পছন্দ ভাদরান কোর্লুকাকে, যদিও এই বছর লেভারকুশেনের হয়ে কেমন পার্ফরমেন্স জানা নাই। এই দুজনের মধ্যে থেকে একজনও স্টার্টিং ইলেভেনে না থাকলে চলে আসবে লিওর ডেজান লোভ্রেন অথবা ই ফ্রাঙ্কফুর্টের গর্ডন শিল্ডেনফেল্ড, এই দুইজন আবার যার যার ক্লাবের নিয়মিত স্টার্টার। এর মধ্যে লোভ্রেনকে দেখে রাখতে হবে, ক্রোয়েশিয়ান নিউ জেনারেশন ডিফেন্ডারদের একজন বলা হচ্ছে তাকে। যাই হোক, একেবারে খারাপ না লাইনআপ, শুধু কোর্লুকা ক্রাইসিস টাইমে ভুলভাল না করলেই হল।

রাইট আর লেফট উইং ব্যাক


রাইট ব্যাকে থাকবে ক্যাপ্টেন দারিও স্রনা, আর তার ব্যাকআপ হিসেবে হয়ত ডায়নামো জাগরেবের সাইম ভ্রালকো অথবা দোমাগোজ ভিডা। স্রনা একাই তার ডানদিকে কাপিয়ে দেয়ার জন্য যথেস্ট, প্রচুর ওভারল্যাপ করে, প্রচুর এনার্জি, খেলার মাঝে দেখলে ভুল হতে পারে রাইট ব্যাক না রাইট উইঙ্গার সে! তার শাখতার ডোনেস্ক তো বোধহয় এবার ডাবল জিতল ইউক্রেন লীগে।

লেফট ব্যাকেও মোটামুটি ধরে রাখা যায় বায়ার্নের ডানিয়েল প্রানিচ থাকবে, অথবা ইভান স্ট্রিনিচ। এদের মধ্যে প্রানিচের অভিজ্ঞতা আর ক্যারিয়ার বেশী সমৃদ্ধ, যদিও বায়ার্নের হয়ে এই সিজনে খুব একটা মাঠে নামা হয় নি বলে ম্যাচ ফিটনেসের ব্যাপারটা মাথায় থেকেই যায়। স্রনার মতই প্রানিচ কিন্তু মুলত উইঙ্গার-উইংব্যাক, তাই সেন্ট্রাল ডিফেন্সে সিমুনিচ-কোর্লুকাকে ওভারটাইম ডিউটি করতে হবে মাঠে।

কোচ স্লাভেন বিলিচ রিস্ক ফ্রি থাকতে চাইলে অবশ্য মনেহয় স্ট্রিনিকই খেলবে মুল দলে, আর প্রানিচ উঠে আসবে লেফট উইঙ্গারে।

সেন্ট্রাল মিডফিল্ড


এখানে প্রথম পছন্দ – স্পার্সের লুকা মডরিচ। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা প্লেমেকার যেটাই বলি, এই ক্রোয়েশিয়া দলের বেশীরভাগ আক্রমন যে মডরিচ থেকেই আসবে ধরে রাখা যায়। দুর্দান্ত প্লেয়ার, ২ বছর ধরে এর পিছনে শুধু শুধু চেলসি ঘুরতেছে না। লুকার মত প্লেয়ার দলে থাকার বড় একটা প্লাস পয়েন্ট হল, এ যেমন ডীপ মিড থেকে অ্যাটাক তুলতে পারে তেমনি ডানে বা বাম সাইড থেকেও একইভাবে খেলা তুলতে পারে।

লুকা মডরিচ যদি সেন্ট্রাল মিডে না খেলে ডানে বা বামে খেলে, তাহলেও খুব একটা সমস্যায় পড়তে হবে না ক্রোয়েশিয়াকে। এর জায়গায় তখন কাভার দিতে পারবে সেভিয়ার ইভান রাকিতিচ। আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৩৯ ম্যাচে ৮ গোল – নিজ যোগ্যতাতেই টিমে চান্স পেতে পারে ইভান।

সেন্ট্রাল মিডে বাকি যে পজিশন থাকে সেটা হল ডার্টি জব ওরফে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড, সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের সামনে ফার্স্ট লেয়ার অফ প্রটেকশন দেয়া যার কাজ। এখানে খেলার সুযোগ আছে ডায়নামো কিয়িভের ওনজেন ভুকোজেভিচ অথবা জারাগোজার টমিস্লাভ ডুমোভিচের। এদের মধ্যে কে ভাল জানা নাই, এক ক্রোয়েশিয়ান পোলে দেখলাম দুজনের ভোটই কাছাকাছি (২১ আর ২৪), তাই বিলিচ যাকে ভাল মনে করে তাকেই খেলাক, সমস্যা নাই।

ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ড ট্যালেন্ট এখনো শেষ হয় নাই - সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে ডর্টমুন্ডের ইভান পেরিসিচ আর আরেকটু আক্রমনাত্মক মিডফিল্ডে হামবুর্গের ইভো ইলিসেভিচ। পেরিসিচকে তো ক্রোয়েশিয়ার এমার্জিং মিডফিল্ড ট্যালেন্ট বলা হয়। এখন তো মনে হচ্ছে চাইলে ৫ জনের মিডফিল্ডও খেলাতে পারবে ক্রোয়েশিয়া, আর সেটাও দুর্দান্তই হবে!

রাইট আর লেফট মিডফিল্ড


রাইট মিডফিল্ড/উইঙ্গারে অটোমেটিক চয়েস হওয়ার কথা নিকো ক্রানকার (না ক্রানা?), কিন্তু নিশ্চিত করতে পারছি না কারন লীগের শেষ দিকে পাওয়া ইনজুরী আর লীগেও স্পার্সের হয়ে নিয়মিত মাঠে না খেলতে পারে। তবে অভিজ্ঞতা, ক্রিয়েটিভিটি আর গোল স্কোরিং রেকর্ড – সব মিলিয়ে ফিটনেস টেস্টে পাস করলেই ক্রানকা খেলবে মুল একাদশে।

লেফটে কে খেলবে? আগেই বলেছি কোচ বিলিচ রিস্ক ফ্রি থাকতে চাইলে ডানিয়েল প্রানিচ খেলতে পারে লেফট ফিডফিল্ড/উইঙ্গারে। অথবা, লুকা মডরিচ বা পেরিসিচের যে কেউ এই পজিশনটা নিতে পারে। মুল কথা, ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডাররা এতটাই ভার্সেটাইল যে কে কোথায় খেলবে সেটার চেয়ে বড় প্রশ্ন হল কোন চারজন খেলবে।

স্ট্রাইকার


এখানে প্রথম পছন্দ এডুয়ার্ডো ডা সিলভা – আন্ডাররেটেড কিন্তু দুর্দান্ত স্ট্রাইকারদের লিস্টে যার নাম অনেক উপরের দিকেই থাকে, আর হ্যা, ব্রাজিলিয়ান। ৪৫ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২২ গোল যার সে তো থাকবেই, তবে ২০১০ এ শাখতার ডোনেস্কে চলে যাওয়ার পর এর খেলা আর দেখা হয় নাই। এডুয়ার্ডো নিজে গোল করলেও সাথে নিচে নেমে অ্যাটাক বিল্ডিংও করতে পারে, আর কিছু এডুয়ার্ডো ম্যাজিকের কথা আর্সেনাল ফ্যানরা নিশ্চয়ই মনে করতে পারবে।

তবে দুঃখজনক ভাবে এডুয়ার্ডো বিখ্যাত মার্টিন টেইলরের কাছে তার ২০০৮ এর ইনজুরীর জন্য। আর্সেনে ওয়েঙ্গার এর পরে টেইলরের আজীবন ব্যান দাবী করেছিলেন মনে আছে, আর এই ইনজুরীর দৃশ্য এতোটাই ভায়োলেন্ট ছিল যে স্কাই স্পোর্টস ম্যাচ রিপ্লে বা পরেও সেই দৃশ্য আর দেখায় নাই। যাই হোক, আশা করব এর কাছ থেকে ভাল খেলা দেখব এবার। তাই ওই ছবি আমিও দিলাম না, নিজ দায়িত্বে ইউটিউব করে নিবেন।

এডুয়ার্ডোর সাথে আর যার পারফেক্ট পার্টনারশীপ করতে পারার কথা সে হল বায়ার্নের ইভিকা ওলিচ, যদিও লীগে মারিও গোমেজের ফর্মের জ্বালায় ২০টার বেশী ম্যাচ খেলতে পারে নাই এবার। ২০ ম্যাচে ২ গোল খুব একটা ভালও না, সামনের সিজন থেকে নাকি উলফসবার্গে যাচ্ছে।

এডুয়ার্ডো বা ওলিচ না খেলতে পারলে একাদশে চলে আসবে এভার্টনের নিকিচা জেলাভিচ আর ঊলফসবার্গের মারিও মানজুকিচ। দুজনের লীগ ফর্মই বেশ ভাল, জেলাভিচ সম্ভবত এভার্টনের টপ গোলস্কোরার এবার, আর মানজুকিচ উলভসের হয়ে ডাবল ফিগার গোল আর ৭টা অ্যাসিস্টের মালিক এই সিজনে। ইম্প্রেসিভ।

যাদের মিস করব

মিডফিল্ডার জার্কো লেকো, স্ট্রাইকারে ইভান ক্লাসনিক আর পেত্রিচ। ক্লাসনিককে দেখব আশা করেছিলাম, অবশ্য বুড়া হয়ে গেছে তো।

ইউরো ২০১২ প্রেডিকশন

এটা বলাটা ট্রিকি, কারন গ্রুপ সি তে এদের সাথে আছে স্পেন, ইতালী আর আয়ারল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়ার যোগ্যতা আছে গ্রুপ পর্ব পার করে যাওয়ার, তবে নির্ভর করছে আসলে ইতালীর উপর। আমার মতে, ইতালী তার প্রথম ম্যাচে যদি স্পেনের সাথে ড্র করে তাহলে ক্রোয়েশিয়ার চান্স কম, আর যদি ইতালী হারে তাহলে ক্রোয়েশিয়ার ভাল সুযোগ থাকবে ইতালীকে টপকিয়ে গ্রুপ ক্রস করা। ইতালীকে কেন এরকম কাবজাব করে ক্রোয়েশিয়ার সাথে মিলিয়ে ফেললাম সেটার ব্যাখ্যা আমি ইতালী প্রিভিউ লেখার সময়ই দিব।

ইতালীর সাথে ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচটা ক্রিটিক্যাল হবে, দুই উইং ভালভাবে ব্যাবহার করতে পারলে ইতালীকে ঝামেলাতেও ফেলতে পারে। এটার ব্যাখ্যাও দিব ইতালী প্রিভিউ লেখার সময়। তবে আয়ারল্যান্ডের সাথে প্রথম ম্যাচটা জেতা উচিত এদের, ওটা মিস করলে ইতালী্র উপর আর নির্ভর করতে হবে না, নিজের যোগ্যতায় নিজে নিজেই গ্রুপ থেকে বাদ পরতে হবে।

ভাল কথা, ডেভর সুকের নাকি এই ইউরোর পর কোচিং এ আসতেছে শুনলাম। একটা ভিডিও শেয়ার করা যাক ইউটিউব থেকে।



আগের দুই লেখাঃ


লেখাটি আরও আছে সামহোয়্যার ইন ব্লগ, ক্যাডেট কলেজ ব্লগ, আর প্রথম আলো ব্লগে।

Wednesday, May 09, 2012

ইউরো ২০১২ প্রিভিউ পর্ব ২ - নেদারল্যান্ডস

মাত্র গতকালই প্রিভিউ পর্ব ১ দিলাম, আজ দিচ্ছি পর্ব ২ – নেদারল্যান্ডস। গ্রুপ বি থেকে পর্তুগাল নিয়ে লেখার ইচ্ছা ছিল এই পর্বে, কিন্তু তারা এখনও তাদের প্রিলিমিনারী স্কোয়াড ঘোষনা না করায় নেদারল্যান্ডস নিয়ে লিখছি। আমি প্রাইমারী স্কোয়াড থেকেই প্রিভিউ লিখছি, আশা করি বিগ স্টাররা কেউই ২৩ জনের মুল স্কোয়াড মিস করবে না! 

পার্সোনালী হল্যান্ডের খেলা আমার খুব একটা ভাল লাগে যে তা না, এর কারন মুলত তাদের ইতিহাস। টোটাল ফুটবলের দেশ এখন আর টোটাল ফুটবল খেলে না, ক্যালকুলেটীভ পজিশনাল গেম খেলে সাফল্য নিয়ে আসে। সাফল্যের কথা শুনে অনেকে নাক উল্টাতেও পারেন, কি বা অর্জন করেছে তারা, কিন্তু রিসেন্টলী ইউরো বাছাই এর ফল দেখলে দেখবেন ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টাই জিতেছে তারা। তবে যতই ম্যাচ জিতুক, আমার মনে হচ্ছে না ইউরোতে সেমির উপরে যেতে পারবে। আবার গ্রুপ থেকেই বাদ পরে যেতে পারে, কারন এই গ্রুপের অন্য দল হচ্ছে জার্মানী, পর্তুগাল আর ডেনমার্ক। রিস্ক কিন্তু আছেই। 

এটা এই ইউরোর জার্সি, কমলা কালার এই প্রথম আমার ভাল লাগলো। 
 কোচ বার্ত ভ্যান মারউইক রিস্ক ফ্রি অ্যাটাকিং খেলায় দলকে, অ্যাটাকিং ফ্রন্টলাইনে এদের এত প্রতিভা যে ২ জন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার থাকার পরেও এভাবে খেলেই সাফল্য পাওয়া যায়। যে কারনে মনে হচ্ছে নেদারল্যান্ডসের মুল ফর্মেশন থাকবে ৪-২-৩-১ আর ৪-২-২-২ এর মধ্যে। 

প্লেয়ার রিভিউতে চলে যাই সরাসরি।

গোলকিপিং


ঈর্ষনীয় লাইনআপ এখানে। আন্তর্জাতিক পার্ফরমেন্স বিচারে হয়ত রোমার মার্টেন স্টেকেলেনবার্গের খেলার কথা মুল একাদশে, কিন্তু এবার নিউক্যাসেলের হয়ে টিম ক্রালের যেরকম পার্ফরমেন্স, মাত্র ২ টা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেও টিম যদি মুল একাদশে শুরু করে, অবাক হওয়ার কিছু নাই। সোয়েসনা সিটির মাইকেল ভ্রম হয়ত তৃতীয় কীপার থাকবে, আবার আয়াক্সের কিলেসেন বা ফেইনোর্দের মুল্ডার পোল্যান্ড-ইউক্রেনের প্লেনের টিকিট পাওয়ারও ভাল সুযোগ আছে।

সেন্ট্রাল ডিফেন্স


এখানে দুইটা স্থানের জন্য অটোমেটিক চয়েস ভাইস ক্যাপ্টেন জন হেইটিঙ্গা, যে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে খেলতে পারে আবার প্রয়োজনে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডেও খেলতে পারে। ফার্স্ট টাইম ট্যাকল বা চার্জ হেইটিঙ্গাই করবে টিমে। আর একটা পজিশনের জন্য মোটামুটি নিশ্চিত মালাগার জরিস মাথিসেন। তবে এরা ছাড়াও বেশ ভাল ব্যাকআপ আছে নেদারল্যান্ডসের – উইলফ্রেড বুমা আর খালিদ বুলারোজ। প্লাস পয়েন্ট হল, উইলফ্রেড বুমা লেফট ব্যাকেও দুর্দান্ত আর বুলারোজ রাইট ব্যাকেও খেলতে পারে। ভার্সেটালিটি অ্যাট ইটস বেস্ট! সেন্ট্রাল ডিফেন্সে আরও একজন দুর্দান্ত ব্যাকআপ আছে, ফেইনোর্দের রন ভ্লার।

রাইট আর লেফট উইং ব্যাক


রাইট ব্যাকে অটো চয়েস হল আয়াক্সের গ্রেগরী ভ্যান ডার উইসেল। ব্যাকআপ সাপোর্ট দেয়ার জন্য বুলারোজ তো আছেই। লেফট ব্যাকে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়ে নেদারল্যান্ডসের এরিক পিটারস ইনজুরীর জন্য ইউরো মিস করায়, তাই বুমাকেই লেফট সাইড সামলাতে হবে। মাত্র ১৮ বছরের জেট্রো উইলিয়েমস হয়ত এই কারনেই মুল ২৩ জনের দলে ঢুকে পড়তে পারে বুমার ব্যাকআপ সাপোর্ট হিসেবে।

পুরো ডিফেন্স লাইনে হয়ত সেরকম বড় স্টার নাই, কিন্তু ওই যে বার্ত ভ্যান মারউইক, ডিফেন্সের সিঙ্ক্রোনাইজেশন দুর্দান্ত ভাবে করতে পারেন। ইউরো বাছাইতে ১০ ম্যাচে নেদারল্যান্ডস গোল খেয়েছিল মাত্র ৮টা।

সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার


এখান থেকে নেদারল্যান্ডসের স্টার সমুদ্র শুরু হল। দুইটা পজিশনের অটোমেটিক চয়েস হল ক্যাপ্টের মার্ক ভ্যান বমেল আর ম্যান সিটির নাইজেল ডি জং। দুজনেই মাসকুলার আর শারিরীকভাবে আক্রমনাত্মক, প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকার আর অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের কে যে পুরো ৯০ মিনিট অসংখ্য লাথি আর চার্জ সহ্য করে টিকে থাকতে এখন থেকেই মেন্টাল প্রিপারেশন নেয়া শুরু করতে পারে। এই দুজনের মধ্যে একটু উইক পয়েন্ট হল ভ্যান বমেল, বয়স হয়েছে তো তাই আগের মত স্পিড নাই, তবে ট্যাকলের জোর ঠিকই আছ। এই সিজনে এসি মিলানের হয়ে এভারেজ পার্ফরমেন্স হলেও গত সিজনে দুর্দান্ত ছিল।

ম্যাচের মধ্যে ভ্যান বমেলকে উঠিয়ে নেয়া হলেও ডিফেন্স থেকে হেইটিঙ্গা কাভার দিতে পারবে, আবার সাথে ২৩ জনের দলে ভ্যালেন্সিয়ার মাদুরোও থাকবে মোটামুটি নিশ্চিত ভাবেই। বাকি ব্যাকআপদের কে অত ভাল করে চিনি না বলে নাম দিতে পারছি না।

রাইট আর লেফট উইঙ্গার


রাইট আর লেফটে রোবেন আর ডার্ক কিউট মোটামুটি ধরে নেয়া যায় বেস্ট ইলেভেনে খেলবে। দুজনেই সাইড সোয়াপ করে খেলতে পারে, তাই সমস্যা হবে না। রোবেনের ক্লাস নিয়ে বেশী বলা আমার সাজে না, পুরা একটা ক্লাস, লুইস ফিগোর কথা বারবার মনে করিয়ে দেয় আমাকে। ডার্ক কুইটকে নিয়ে যদি সন্দেহ থাকে তাহলেও সমস্যা নাই, ব্যাকআপ হিসেবে বার্সার ইবাহিম আফেলাই (রাইট) আর পিএসভির উইনালডাম (লেফট) একেবারে খারাপ না। এসি মিলানের উর্বি এমানুয়েলসনও থাকবে আশা করি, ভার্সেটাইল একটা প্লেয়ার, মুলত লেফট উইঙ্গার হলেও সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডেও খেলতে পারে।

সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার


এইখানে একটা পজিশন, যেখানে নিশ্চিতভাবেই থাকবে ওয়েসলি স্নাইডার। এই সিজনের শেষের দিকে সেই পুরান স্নাইডারের ঝলক দেখা গেছে, সর্বশেষ মিলান ডার্বিতে তো এসি মিলানকে ভালই নাচাইছে একা। ব্যাকআপ কে? নাম শুনলে ভয় পাবেন, স্পারসের রাফায়েল ভ্যান ডার ভার্ট আর পিএসভির কেভিন স্ট্রুটম্যান। এই তিনজনের মধ্যে কেভিন স্ট্রুটম্যানের নাম কম পরিচিত, কিন্তু একে বলা হচ্ছে নেদারল্যান্ডসের এমার্জিং ট্যালেন্ট। সেন্ট্রালেও খেলতে পারে আবার লেফট উইঙ্গারেও সমান পারদর্শী।

স্ট্রাইকার


এখানেও একই সমস্যা, রবিন ফন পার্সি অটোমেটিক চয়েস হলেও শালকের ক্লাস-জান হান্টেলারকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা একটা বড় আফসোসের ব্যাপার। ইতিমধ্যেই ডাচ মিডিয়াতে কথা হচ্ছে কিভাবে ফন পার্সি আর হান্টেলারকে একসাথে খেলানো যায়, এমনকি কোচ নিজেও স্বীকার করেছেন এদের দুজনকে কিভাবে একসাথে খেলানো যায় মুল একাদশে সে ব্যাপারে চিন্তা করবেন।


শালকের হয়ে বুন্দেসলীগার এই সিজনে ৪৭ ম্যাচে যে ৪৮ গোল করতে পারে, তাকে আপনি কিভাবে বেঞ্চে বসিয়ে রাখবেন!!!

যাদেরকে মিস করব

অবশ্যই এরিক পিটারস। আরও মিস করব রায়ান বাবেলকে।

ইউরো ২০১২ প্রেডিকশন

গ্রুপ অফ ডেথে কোন প্রেডিকশন খাটে না আসলে, তবে গ্রুপ পর্ব পার করতে পারলে আমি ধরে রেখেছি ম্যাক্সিমাম সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারবে। খেলার স্টাইল খুব একটা দর্শনীয় না, বরং বমেল আর ডি জং এর লাথিমারার ইতিহাস এত সমৃদ্ধ (!), বিউটিফুল গেম অফ ফুটবলে ছোট হলেও একটু কালো দাগ থাকে। 

তবে দিন শেষে ফলটাই আসল, আর সেখানে নেদারল্যান্ডস যথেস্টই সফল। চ্যাম্পিয়নশীপ ম্যাটেরিয়েল লাগে না আমার কাছে যদিও তারপরেও নিজেদের দিনে সব ম্যাচেই জেতার সামর্থ আছে এদের। 

এই টিম থেকে প্লেয়ার অফ দ্যা টুর্নামেন্ট কে হতে পারে, ফন পার্সি না স্নাইডার না রোবেন? আমার ভোট রবেন, যদি মুড়ি মুড়কির মত গোল মিস না করে। 

ডি জং এর এই ছবিটা দেয়ার জন্য হল্যান্ডের সাপোর্টারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম



এই লেখাটি আরও আছে -

Tuesday, May 08, 2012

ইউরো ২০১২ প্রিভিউ পর্ব ১ - জার্মানী

প্রতি জোড় বছরগুলোতে এই সময়ে মনটা ভাল থাকে, রেগুলার ফুটবল সিজন শেষ হয়ে যাওয়ার পর ৩ মাস রিপ্লে দেখতে হয় না। এবার যেরকম ইউরো ২০১২ শুরু হচ্ছে ৮ জুন থেকে, যেটাকে আমি বিশ্বকাপের চেয়েও বড় টুর্নামেন্ট হিসেবে মনে করি। নো অফেন্স টু আর্জেন্টিনা অর ব্রাজিল, আসলে বিশ্বকাপের বিশ্বায়নের জন্য এশিয়া বা নর্থ আমেরিকা থেকে কোটা পুরন করার মত দলের খেলা দেখা লাগে না ইউরোতে, বরং যে ১৬টা দেশ খেলে সবাই গ্লোবাল ফুটবলে বেশ ভাল দল।

এবারে স্বাগতিক দল দুইটা একটূ খারাপ পড়ে গেছে, বাছাইপর্ব খেলে আসতে হলে হয়ত শুধু ইউক্রেন কোয়ালিফাই করত, পোল্যান্ড না। তবে উয়েফার উচিত যৌথ স্বাগতিক তত্ব বাদ দিয়ে দেয়া পরের বার থেকে, ইউরো আয়োজনের জন্য ৬-৮টা স্টেডিয়ামই যথেস্ট।

এই ভুমিকা পর্ব এবারই শেষ লিখলাম, এবারের ইউরোর ফেভারিট টিমগুলো নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রিভিউ দেয়ার ইচ্ছা আছে যতদুর পারি। প্রথম পর্ব শুরু করছি জার্মানী দিয়ে। জার্মানী আমার ঠিক প্রিয় টিম না হলেও একটু পক্ষপাতিত্ব করলাম গত বিশ্বকাপে তাদের দুর্দান্ত ম্যাচপ্লে দেখে। জোয়াকিম লোউ যেহেতু এবারো সাথে আছে, বিশ্বকাপের মত বা এর চেয়েও ভাল খেলা দেখার আশা করতেই পারি। 


এদের প্রভিশনাল টিমটা দেখে নেয়া যাক। এদের ইউজুয়াল ফর্মেশন হল ৪-২-৩-১, তবে সময় বুঝে ৪-১-৩-২ হয়েও যেতে পারে।

গোলকিপিং



প্রথম চয়েস নিঃসন্দেহে ম্যানুয়েল নয়্যার, শুধু জার্মানীরই না, পুরো বিশ্বেরই অন্যতম সেরা গোলকীপার সে। ব্যাকআপ হিসেবে টিম ওয়াইজও বেশ ভাল, ব্রেমেনের কীপার, যদিও ইন্টারন্যাশনাল এস্কপেরিয়েন্স কম। নয়্যার ফিট থাকলে সেটার দরকারও নাই অবশ্য। বাকি যে দুজন – রন রবার্ট জিলার আর আন্দ্রে স্টেগান থেকে একজন মুল ২৩ জনের একাদশে ঢুকবে, পুরো টুর্নামেন্টে বেঞ্চ ছাড়া খেলার জায়গা হবে না যেই হোক।

সেন্ট্রাল ডিফেন্স


সেন্ট্রাল ডিফেন্সের ২টা পজিশনের জন্য প্রাথমিক চয়েস পার মার্তেসেকার, বায়ার্নের ব্যাডস্টাবার আর ডর্টমুন্ডের ম্যাটস হামেলস। আর্সেনালের মার্তেসেকার তো পুরা একটা টাওয়ার, লং বলে খেলা টিম এর সাথে পাল্লা দিয়ে পারবে না। এর খারাপ দিকও আছে, যেদিন খারাপ খেলে সেদিন ভয়াবহ খারাপ খেলে। শালকের বেনেডিক্ট হোয়েডেসও যথেস্টই ভাল ব্যাকআপ। সেন্ট্রাল ডিফেন্সের এই পজিশনে জার্মানীর চিন্তা না করলেও চলবে, জোয়াকিম লো কিভাবে সিঙ্ক্রোনাইজ করে নিবে তার উপরই নির্ভর করছে পারফর্মেন্স।

উইং ব্যাক


প্রথমেই নাম আসবে ক্যাপ্টেন ফিলিপ লাম, রাইট ব্যাক, ডিফেন্সিভলী আর অ্যাটাকিংলি সম্ভবত বিশ্বের সেরা রাইট ব্যাক। লেফটের পজিশনটাই জার্মানীর একমাত্র দুর্বল দিক – এখানে খেলতে পারে জেরোম বোয়াটেং বা ডর্টমুন্ডের মার্সেল। এদের অবস্থা খারাপ হলে সেন্ট্রালের ব্যাডস্টাবারও মোটামুটি ব্যাকআপ। লেফট ব্যাকের এই তিনজন হয়ত এভারেজের চেয়ে ভাল, তবে জার্মানীর স্ট্যান্ডার্ডের না।

সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড


চোখ বন্ধ করে এখানে যে দুইজন খেলবে তারা হল রিয়েল মাদ্রিদের স্যামি খেদিরা আর বায়ার্ন মিউনিখের বাস্তিয়ার সোয়েনস্টেইগার। শোয়েনি যদি ফুল ফিট থাকে আর পুরো মাঠে খেলার স্বাধীনতা পায়, তাহলে এই জার্মান টিমের মেইন ইঞ্জিন সে (ফ্র্যাঙ্কলি, ব্যালাককেও মিস করি নাই বিশ্বকাপে শোয়েনির খেলা দেখে)। লারস আর সভেন, দুই জমজ বেন্ডার ভাইও চালায়ে নিতে পারবে, কিংবা টনি ক্রুস একটি নিচে নেমে চাল ব্যাকআপ দিতে পারবে যদি কখনো খেদিরা বা শোয়েনির কেউ খেলতে না পারে।

রাইট আর লেফট উইঙ্গার


লেফট উইঙ্গার হিসেবে পোডোলস্কি প্রথম চয়েস, লেভারকুশেনের আন্দ্রে স্কার্লও দুর্দান্ত প্লেয়ার একজন। বেস্ট ইলেভেনের রাইট উইঙ্গার পজিশনে বেশ ফাইট হবে মারিও গোজে আর থমাস মুলারের মধ্যে। জার্মান ফর্মেশনে উইঙ্গারদেরকে ইনসাইড স্ট্রাইকারের রোল নিতে হয় ম্যাচের মধ্যে অনেকবার, তাই গোলস্কোরিং রেকর্ড একটা দেখার বিষয়। লীগ আর ইন্টারন্যাশনাল রেকর্ড দেখলে মনেহয় মুলারই খেলবে, আর মারিও গোজে থাকবে সুপার সাব যেহেতু অ্যাটাকিং এর যেকোন পজিশনেই খেলতে পারে।

সেন্ট্রাল অ্যাটকিং মিডফিল্ড


এখানেও আল্টিমেট চয়েস মেসুত ওজিল, আর ওজিল না খেললে টনি ক্রুস অন্য যেকোন দলেই বেস্ট ইলেভেনে খেলার মত প্লেয়ার। জার্মান মিডফিল্ড আর নামগুলো এবার এতটাই দুর্দান্ত, স্পেনের পরেই বেস্ট মিডফিল্ড এদের কোন সন্দেহ নাই। তবে এক হিসেবে স্পেনের চেয়েও ভাল কারন প্রায় সবাই নিয়মিত গোল করতে পারে।

স্ট্রাইকার


একমাত্র এই পজিশনের জন্য মারিও গোমেজ, লীগে যেরকম হালি হালি গোল দেয় বলে কয়ে আর সন্দেহ থাকা উচিত না। ব্যাকআপ হিসেবে মিরোস্লাভ ক্লোজ (হ্যা এবার ব্যাকআপ!) আর কাকাউ। ফর্মেশন চেঞ্জ করে ২ স্ট্রাইকার খেলালে গোমেজের সাথে থমাস মুলার খেলবে, তবে গোমেজ আর ক্লোজ একসাথে খেলবে না মনেহয়।

যাদেরকে মিস করব

রাইট ব্যাকের ব্যাকআপ হিসেবে আর্নে ফ্রিডরিখ, মিডফিল্ডে সাইমন রোফেস আর মার্কো মারিন, আর স্ট্রাইকারে কিসলিং। চেলসি এবার একটা দাগা খেল মনেহয়, এত ঢাক ঢোল পিটিয়ে মারিনকে মাত্রই কিনছিল নেক্সট সিজনের জন্য!

ইউরো ২০১২ প্রেডিকশন

সোজা ভাষায় গ্রুপ অফ ডেথে পড়ছে জার্মানী, গ্রুপ বি তে আরও সাথে আছে নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল আর ডেনমার্ক। গ্রুপ পর্ব পার করতে পারলে এরা ফাইনালে খেলার মত টিম, গ্রুপেই যা ফাইট হবে আরকি। তবে জার্মানীর সবচেয়ে স্ট্রং দিক হল শোলডার রান, যেভাবে অফসাইড ট্র্যাপ ভেঙ্গে থ্রু বল পিক করে ফ্রন্ট প্লেয়াররা, প্রতিপক্ষের হাই ডিফেন্স লাইন (যেমন স্পেন, ইংল্যান্ড) হলে জার্মানীর সামর্থ আছে এক ম্যাচে একাধিক গোল করার।

পোডলস্কি আর মুলার থাকাতে কাউন্টার অ্যাটাকেও দুর্দান্ত এরা।

পার্সোনালী জার্মান টিম নিয়ে আমি এবার ব্যাপক আশাবাদী। এবার যদি ইউরো না জিতে তাহলে পরের বার বিশ্বকাপ জিততে পারে এই টিম। সাপোর্ট টিম চেঞ্জ করে ফেলব না কি দেখি, জার্মানীর খেলার সময় মাঠের মত গ্যালারীও দেখার মত থাকে! 



ফাইনাল প্রেডিকশন টাইম - জার্মানীর এই টিম থেকে প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট কে হবে? আমার বাজি, হয় শোয়েনি না হয় ওজিল। 

সো, পরের পর্বে কাকে নিয়ে লেখা যায়?

Saturday, January 21, 2012

দুঃখিত, আমি বাংলাদেশী না, ভারতীয় প্রদেশের নাগরিক



বিজিবি ১২ ব্যাটালিয়ানের ভাষ্যে, ‘লুৎফুর রহমানকে ভারতে নির্যাতন করা হয়েছে। তার দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মাথায় একাধিক সেলাই রয়েছে। তাছাড়া তার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

সাহারা খাতুন, কাল রাতের সকল নিউজের ভিডিও রেকর্ডে আছে, যেখানে আপনি বলেছেন “আমাদের বিজিবি সদস্য লুৎফর রহমান চোরাকারবারী দ্বারা অপহৃত নয় বিএসএফ এর কাছে আশ্রয় নিয়েছে।” এখন আমাদের প্রশ্ন, সুস্থ-অক্ষত বিজিবি সদস্য আপনার ভাষ্য অনুযায়ী বিএসএফ কাছে আশ্রয় নিলে, কেন তাঁকে আজ গভীর রাত ৩ টায় সারা শরীর থেতলানো, সব দাঁত ভেঙে এবং মাথায় একাধিক সেলাই দেয়া অবস্থায় বিএসএফ ফেরত দিল?? কেন কাল সকালে তাঁকে নিয়ে যাবার পর সারাদিন ফেরত না দিয়ে রাতের অন্ধকারে ফেরত দেয়া হল??



রাজধানীর আগারগাঁও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব লোকাল গভর্নমেন্ট মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্তে যা কিছু ঘটছে তার সঙ্গে বহু বিষয় জড়িত। এগুলো রাষ্ট্রীয় বিচারযোগ্য কোনো বিষয় নয়। দুই দেশের পক্ষ থেকেই চোরাকারবারি, মাদক পাচার ও গরু চুরি হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ঘটনাগুলো ঘটছে। এসব অতীতে ঘটেছে, এখনো ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে। এগুলো নিয়ে রাষ্ট্র খুব বেশি চিন্তিত নয়।’

আমাদের বেতনভুক্ত মন্ত্রীপরিষদের কাজ কি আসলে? ইন্ডীয়ার হয়ে কাজ করতে মন চাইলে ওখানে যান, এই দেশে গন্ধ ছড়াচ্ছেন কেন?

এই মুহুর্তে কি ভারতপ্রীয় রাজনীতিবিদদের বকবক শুনা আর ফেসবুকে ব্লগে ঝড় তোলা ছাড়া আমাদের কি কোন উপায় নাই? যদি বলি, আমাদের সামনে এভেইলেবল সব নিত্য ব্যাবহার্য ভারতীয় পন্য বর্জন করে আমাদের বাংলাদেশী পন্য ব্যাবহার শুরু করি, ভারতের রপ্তানী বানিজ্যে ছোট হলেও কিছু তো আঘাত দিতে পারব, না কি? 


সবজায়গায় ছড়িয়ে দেন, সচেতনতা আসুক। না আসলে কি আর করা, কুলাঙ্গার সব দেশেই আছে, আমাদের দেশে না হয় একটু বেশীই আছে।

এয়ারটেল (Airtel) 
আপনার Airtel sim টা ফেলে দিন, Teletalk নিতে পারেন, না পারলে Grameenphone ও নিতে পারেন কারন এদের ৩০% মালিকানা আমাদেরই গ্রামীনব্যাঙ্কের

Lays chips, Kurkure chips
Lays এর বিকল্প বাংলাদেশি Sun chips, একই স্বাদ, দাম কম

Cadbury, Chlormint, Alpenliebe, centerfresh, mentos, air action, chocolate 
বাংলাদেশি অনেক মানসম্মত চকলেট আছে, chocolate কেনার আগে পেছনে দেখে নেবেন দেশি company’র নাম

Hajmola, Dabur products 
হাজমলা, ডাবুর চবনপ্রাস, ডাবুরের সব পণ্য

Parle G এবং অন্যান্য ভারতীয় বিস্কুট
বাংলাদেশি biscuit এর মান ওদের চেয়ে অনেক ভালো

Micromax, Hitech, Karbonn, Lava মোবাইল সেট
সিম্ফনী আর এরকম অনেক কোম্পানি আছে দেশে, তাদের সেটগুলো চায়না মেইড হলেও আমরা তো বাংলাদেশী কোম্পানীকেই টাকা দিচ্ছি

Maruti, Swaraz Mazda, Tata, Hindustan গাড়ি ও ট্রাক
আমরা তো জাপানিতেই অভ্যস্ত, এখন ভারতীয় গুলো না কিনলেই চলে

Bajaj pulsar, TVS, Hero Honda, Yamaha (India Made) 
দেশি Walton যথেস্টই ভাল

Videocon, Whirlpool (India Made) 
দেশি Walton কিনুন, অথবা ভারতীয় ছাড়া অন্য Brand কিনুন

Titan ঘড়ি 
অনেক সমমানের ঘড়ি বাজারে আছে এরচেয়ে কম দামে

VLCE, Dermo viva, Chic, Veet, Vatika (Dabur), Medimix, Set Wet, Softee, Himalaya, Garnier, Lakme (লাকমে) কসমেটিকস, ফেসওয়াশ, মেকাপ আইটেম ও ক্রিম
দেশি ব্র্যান্ড এর গুলো খুঁজে নিন, square, cute, keya, kohinoor এর মানসম্মত দেশি কসমেটিকস আছে, কসমেটিকসের ক্ষেত্রে ভারতীয়র বদলে থাইল্যান্ডের টা খুঁজে নিন

Colgate (India Made), Meswak, Dabur Red, Active টুথপেস্ট 
দেশি টুথপেস্ট অনেক ভালো

Jatak, Set wet, Wild Rain deodorant spray (পারফিউম ও স্প্রে)

Cello, Montex, Nataraj, Camel পেন্সিল, রঙপেন্সিল, কলম, রঙ

Whisper toiletries

Asian Paint, Fevicol
বিকল্প অনেক রঙ আছে বাজারে

Raymond ফেব্রিক ও টেইলর

সবরকম Dabur (ডাবর), Godrej (গোদরেজ) ও Amul (অমল) পণ্য

Birla Ultratech Cement ও বিড়লার সব পণ্য 
আমাদের দেশি সিমেন্ট বিদেশে রফতানি হয়! ওদেরটা কেন কিনবেন?

Ujala (ঊজালা), হুইল (Wheel) সাবান, নীল ও Detergent
এদের চেয়ে উন্নত দেশীয় অনেক পণ্য আছে

Soffola gold সয়াবিন তেল, Dalda বনস্পতি 
অন্য অনেক সয়াবিন তেল ও বনস্পতি তেল আছে বাজারে

Parachute নারিকেল তেল 
জুই, লালবাগ এইসব নারিকেল তেল ব্যবহার করুন। একজন কেমিস্ট আমাকে বলেছে Parachute নারিকেল তেলে সবচেয়ে বেশি artificial কেমিকেল থাকে

Hero, Atlas সহ অন্যান্য ভারতীয় সাইকেল ও ভারতীয় সাইকেল পার্টস
বিকল্প আছে বাজারে

Hawkins, Prestige প্রেসার কুকার ও ক্রোকারিজ 
বাংলাদেশি কিয়াম Kiam ব্যবহার করুন, মান ভাল দামও কম

Archies greetings card 
এখন আজাদ, আইডিয়াল এদের ভাল কার্ড পাওয়া যায়, একটু খুঁজে নিন

Arvind, Raid; Tailors ভারতে তৈরি সার্ট, প্যান্ট ও সুট এর কাপড় 
বাজারে আমাদের নিজস্ব অল্প কিছু কাপড় আছে তবে কোরিয়ান সহ আরও অনেক ব্র্যান্ড পাওয়া যায়

সানন্দা, আনন্দলোক (ভারতীয়), stardust সহ অন্যান্য ভারতীয় বিনোদন ম্যাগাজিন 
Internet এর যুগে কি আসলেই ওদের পত্রিকা কিনে পড়ার দরকার আছে?

ভারতীয় শাড়ি ও অন্যান্য জামা 
শাড়ি কেনার জন্য দেশিটা বেছে নিন... প্রাইড, জনি প্রিন্ট সহ আরও অনেক উন্নত মানের শাড়ির আছে, এছাড়া মিরপুরের কাতান, জামদানি এদের উপরে ভালো শাড়ি ভারতেও কম হয়

Starplus, Zee, Sahara সহ সব ভারতীয় Channel
এইসব Channel এ Parental Lock দিয়ে রাখুন, বিশ্বাস করুন, এই Channel গুলো না দেখলে ভারতীয় পন্যের প্রতি আপনার আকর্ষণ আপনাআপনি অর্ধেক হয়ে যাবে!


দোকানে পেঁয়াজ, রশুন, ডাল কেনার সময় ইন্ডিয়ান এর পরিবর্তে অন্যটা খুঁজবেন। দেশী পেয়াজ যে ইন্ডিয়ান পেইয়াজের চেয়ে ভাল এটা সবাই স্বীকার করে।

আর এত নাম মনে না রাখতে চাইলেও উপায় আছে। যখন যেটা কিনতে যাবেন দোকানে, জিজ্ঞেস করে নিবেন সেটার বাংলাদেশী বিকল্প কি আছে? না থাকলেও ইন্ডিয়ান বা পাকিস্তানী জিনিষ কিনবেন না।

মনে রাখবেন, আমাদের দেশীয় ইন্ডাস্ট্রির দিকে আমরা যদি মুখ ফিরিয়ে রাখি, ক্ষতি আমাদেরই। পুরো দেশ যখন একটা প্রতিবেশী দেশের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তাহলে সেই দেশের স্বকীয়তা বলে আর কিছু থাকে না। এখনও দেরী হয়ে যায়, আসুন না সবাই যার যার ক্ষেত্রে কিছু হলেও অবদান রাখি আমাদের দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে। আমাদের পলিটিশিয়ানদের দিকে তাকিয়ে লাভ নাই, ওদের কাছে নিজের পকেটের চেয়ে দেশের স্বার্থ ছোট।